গর্ভবতী হওয়ার সঠিক সময় বোঝার ৮টি টিপস

কথায় আছে জন্ম, মৃত্যু এবং বিয়ে; জীবনের এ তিনটি বিষয়ের উপর মানুষের হাত নেই, এ ব্যাপারগুলো বিধাতার ইচ্ছায় হয়ে থাকে। তারপরেও জীবন সাজাতে, ভাল...

কথায় আছে জন্ম, মৃত্যু এবং বিয়ে; জীবনের এ তিনটি বিষয়ের উপর মানুষের হাত নেই, এ ব্যাপারগুলো বিধাতার ইচ্ছায় হয়ে থাকে। তারপরেও জীবন সাজাতে, ভালো থাকতে এবং অপরকে ভালো রাখতে অনেক পরিকল্পনা করতে হয় আমাদের। বিয়ের পর কোন সময়টায় পরিবারে নতুন সদস্য আসবে সেটার একটি পরিপূর্ণ পরিকল্পনা থাকা চাই। নতুবা ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও পেশাগত জীবনে নানা ধরণের বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে; যার নেতিবাচক প্রভাব নবজাতকের শারীরিক ও মানসিক গঠনেও পড়তে পারে। 

আবার অন্যদিকে, অনেকে সব ধরণের প্রস্তুতি নিয়ে মা হতে চান কিন্তু গর্ভধারণে নানা জটিলতা দেখা দেয়। অনেকের ধারণা শুধুমাত্র কনডম ব্যবহার না করলেই বুঝি গর্ভধারণ হয়ে যাবে। সেটা যখন না হয় অনেকে হতাশ হয়ে পড়েন, অত্যধিক চিন্তা আর মন খারাপ থেকে সে নারীর শরীরও খারাপ হয়ে যেতে পারে।
তাই আজকে আমরা জানবো ঠিক কোন সময়টায় চাইলে একজন নারী গর্ভধারণ করতে পারেন। মা হওয়ার সবচেয়ে উপযুক্ত সময়, পরিবেশ-পরিস্থিতি ইত্যাদি জানা থাকলে অনেক দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে। তাহলে দেখা যাক, একজন নারী কখন মা হওয়ার জন্য পুরোপুরি তৈরি!

সন্তান পালনের মত আর্থিক সচ্ছলতা আছে কি?
পরিবারে নতুন সদস্যকে স্বাগতম জানানোর জন্য অবশ্যই একটা সুস্পষ্ট অর্থনৈতিক পরিকল্পনা করে ফেলতে হবে। ডাক্তার-হাসপাতাল এসবের খরচ তো আছেই, বাচ্চা জন্ম নেবার পর তার সুন্দর জীবনের জন্যেও পরিকল্পনা করতে হবে। সুস্থ মা ও শিশুর সব ধরণের প্রয়োজনীয়তা পুরণের জন্য ধীর স্থির হয়ে এগুতে হবে।

মা ও শিশুর পরিচর্যায় কেউ আছেন?
আমাদের পরিবারগুলো ছোট হয়ে আসছে। এছাড়া সবারই নিজস্ব ব্যস্ততাও রয়েছে। নবজাতকের ২৪ ঘন্টাই পরিচর্যার প্রয়োজন হয়। এমনকি সে ঘুমাচ্ছে তখনও তাকে একা ঘরে রাখা উচিত না। প্রসব পরবর্তী সময়ে একজন মায়েরও পরিপুর্ণ বিশ্রামের দরকার আছে। এ সময়টায় মা ও শিশুর যত্নে কে নিয়োজিত হবেন তা আগেই ঠিক করে ফেলতে হবে। পরিবারের কেউ হলে ভালো, তেমন সুবিধা না থাকলে কাউকে নিয়োগ দেয়ার পরিস্থিতি হলে তা গর্ভবতী অবস্থাতেই দেয়া উচিত। গর্ভবতী মায়েরও পরিচর্যার জন্য একজন সাহায্যকারী দরকার।

আপনার স্বামী পাশে থাকছে তো?
একজন গর্ভবতী নারীর বা একজন সদ্য মায়ের জন্য তার স্বামীর উপস্থিতি টনিকের মতো। এই সময় একজন স্বামীই পারে তার স্ত্রীকে হাত ধরে সাহস যোগাতে। তাই গর্ভধারণের আগে ভেবে দেখতে হবে আপনার স্বামীর ব্যবসা বা চাকুরি ক্ষেত্র আপনার কাছা কাছি কিনা। আপনার জরুরি প্রয়োজনে উনি ব্যবসা থেকে কিছু সময় ছুটি নিলে ব্যবসা চালিয়ে নেবার মত দক্ষ এবং বিশ্বস্ত লোক আছে কিনা।
আর স্বামী চাকুরিজীবী হলে তিনি ছুটি পাবেন কিনা। অনেক প্রতিষ্ঠানে ছুটি জমানোর সুযোগ আছে। বাচ্চা নেয়ার পরিকল্পনা থাকলে ছুটিগুলো জমিয়ে রাখতে হবে যেন যেকোনো সময় জরুরী অবস্থা তৈরি হলে ছুটি পাওয়া যায়। আগেই ছুটিগুলো ব্যবহার করে ফেললে কর্মক্ষেত্রে চাপ তৈরি হতে পারে। অহেতুক চাপ নেয়ার প্রয়োজন তো নেই!

ডায়বেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের পরীক্ষা
গর্ভবতী হওয়ার পথে ডায়বেটিস ও উচ্চরক্তচাপ ভয়ানক বিপদ তৈরি করতে পারে। অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভপাতের জন্য মায়ের শরীরের ডায়বেটিস ও উচ্চরক্তচাপ দায়ী থাকে অনেক ক্ষেত্রেই। উচ্চরক্তচাপের কারনে প্রি-ম্যাচিউর ডেলিভারিও হয়ে যায় অনেক সময়। মায়ের জীবন ঝুকিপুর্ণ হয় এ অবস্থায়। তাই গর্ভধারণের আগেই ডায়বেটিস আর উচ্চরক্তচাপের চিকিৎসা করিয়ে নিতে হবে। এতে শরীর যেমন গর্ভধারণের জন্য প্রস্তুত হবে, তেমনি মায়ের আত্মবিশ্বাসও বেড়ে যাবে বহুগুণে।

শরীরের হরমোনাল ব্যালান্স
অনেক নারী মা হতে গিয়ে ব্যর্থ হন শুধুমাত্র শরীরের হরমোনাল ইমব্যালান্সের কারণে। মা হওয়ার জন্য যেসব হরমোন শরীরে ঠিক মতো কাজ করা দরকার তাদের অপর্যাপ্ততা বা বেশী থাকার কারণে এমনটা হয়। যেমন থাইরয়েড গ্ল্যান্ড এর হরমোনাল ইমব্যালান্স। মানুষের গলায় প্রজাপতি আকৃতির এ গ্রন্থি থেকে থাইরক্স হরমোন নিঃসৃত হয়। শরীরের অতি গুরুত্বপুর্ণ কার্যাবলি থাইরয়েড গ্ল্যান্ডের উপর নির্ভর করে। যাদের থাইরয়েড গ্ল্যান্ডের সমস্যা আছে তাদের নিয়মিত চেকআপ করিয়ে একে নিয়ন্ত্রণে এনে তবেই মা হওয়ার কথা ভাবতে হবে।

ওজন এবং খাবার
অনেকের শরীরে অন্য কোনো অসুখ না থাকলেও ওজন বেশী থাকার কারণে গর্ভবতী হতে সমস্যা হয়। ওজন বেশী থাকলে গর্ভাবস্থার সময় ডায়বেটিস ও উচ্চরক্তচাপ এসে হানা দেয়। পরিণতিতে নানা জটিলতা দেখা দেয়। গর্ভবতী হতে চান এমন নারীদের উচিত জীবন যাপনের একটি ভালো পদ্ধতি অনুসরণ করা। কোনো মাদক বা ধূমপান থেকেও বিরত থাকতে হবে। ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য সকাল-বিকাল হাটা, বা জিমে যাওয়া যেতে পারে। সাঁতার কাটা শরীরের ফ্লেক্সিবেলিটির জন্য অনেক ভালো। সেই সাথে খেতে হবে সুষম খাবার। প্রয়োজনে একজন ডায়েটেশিয়ানের কাছ থেকে খাদ্য তালিকা তৈরি করিয়ে নিয়ে সে অনুযায়ী খাবার খাওয়া যেতে পারে। মনে রাখবেন চিনিযুক্ত খাবার ওজন বাড়িয়ে দেয়ার জন্য দায়ী। তাই চিনির বিকল্প ZeroCal ব্যবহার করুন। রাতেরবেলার পর্যাপ্ত ঘুম শরীরের অনেক স্ট্রেস কমিয়ে দিতে পারে। প্রতিদিন অন্তত আট ঘন্টা ঘুমাতে হবে। নিয়মতান্ত্রিকতার ভিতর দিয়ে ওজন কমানোই একজন হবু মায়ের জন্য উৎকৃষ্ট। তবে এসব করতে হবে গর্ভধারণের আগে। গর্ভধারণের পর ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কিছু করা যাবে না।
 

ডিম্বাণু নিষিক্ত হওয়ার  সম্ভাব্য সময়
গর্ভবতী হওয়ার জন্য অনেক প্রস্তুতি তো করা হলো, এবার ভেবে দেখতে হবে স্বামীর সাথে মিলিত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে। কোন প্রবলেম না থাকার পরেও দেখা যায় একটি দম্পতির বাচ্চা হচ্ছেনাএর কারণ অপর্যাপ্ত সেক্স অথবা সেক্স এর টাইমিং মিলিয়ে নিতে না পারাহিসাব করলে দেখা যাবে স্ত্রীর ডিম্বাণু নিষিক্ত হওয়ার সময় হয়তো মিলন ঘটে নি যার ফলে গর্ভধারণও হয় নি। একজন নারীর ডিম্বাশয়  মাসে একবার ডিম্বাণু তৈরি করে। যখন এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় শুধুমাত্র তখনই বীর্যের সংস্পর্শে এলে ডিম্বাণুটি নিষিক্ত হতে পারে। তবে শুক্রাণু নারীর গর্ভে গিয়ে প্রায় পাঁচদিন পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে।তখন যদি নারীর ডিম্বাণু প্রস্তুত হয় তখনই শুক্রাণু ডিম্বাণুটির সাথে মিলিত হতে পারে।

একজন নারীর মাসিক শুরুর দিন থেকে গুণে গুণে সাতদিন পর্যন্ত এই ডিম্বাণু পুরোপুরি তৈরি হওয়ার সুযোগ নেই বলা চলে। যাদের মাসিক অনিয়ম তাদের কথা আলাদা। কিন্তু যাদের প্রতিমাসে ঠিকঠাক মতো সঠিক সময় মাসিক হয় তারা এ বিষয়টা মাথায় রাখতে পারেন। ইমার্জেন্সি পিল খেলে এ হিসাব কাজ করবে না, এটাও মনে রাখতে হবে
স্বাভাবিক মাসিক হয় যাদের তাদের পিরিয়ড শেষ হবার পর সাত দিন পর্যন্ত স্বামীর সাথে মিলিত হলেও এ থেকে গর্ভধারণ করার সুযোগ খুব কম। গর্ভবতী হতে চাইলে এর পরের ১০ দিন স্বামীর সাথে একবার করে মিলিত হলে কোনো সমস্যা না থাকলে গর্ভবতী হবেন নারী। কারণ এ সময়ের ভিতরেই ডিম্বাণুটি প্রস্তুত হয়।
 
ডাক্তারের পরামর্শ
গর্ভবতী হওয়ার আগেই একবার ডাক্তারের সাথে কথা বলা যেতে পারে। নানা ধরণের টেস্ট করে শরীরকে গর্ভধারণের জন্য উপযুক্ত করার জন্য ডাক্তারের পরামর্শই সবচেয়ে ভালো।

পরিশিষ্ট

মা হওয়ার আগেই যদি প্রস্তুতিগুলো নিয়ে ফেলা যায় তাহলে গর্ভাবস্থায় খুব বেশী চাপ নিতে হয় না। গর্ভধারণ করার পর শরীরের যত্ন নেয়ার সুযোগ তৈরি হয় এতে। ভালো বই পড়া বা প্রার্থণা এ সময় মানসিক শান্তি এনে দেয়। গর্ভের শিশুর সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার জন্য যা অনেক বেশী প্রয়োজন। মা ভালো থাকলেই শিশু ভালো রবে। এটা সবারই মনে রাখা দরকার। 

COMMENTS

Name

খাদ্য ও পুষ্টি,36,জন্মনিয়ন্ত্রণ,1,পুরুষের স্বাস্থ্য,4,ভেষজ চিকিৎসা,20,মহিলা স্বাস্থ্য,241,শিশু স্বাস্থ্য,56,সমস্যা ও সমাধান,202,
ltr
item
বাংলা স্বাস্থ্য বিধি: গর্ভবতী হওয়ার সঠিক সময় বোঝার ৮টি টিপস
গর্ভবতী হওয়ার সঠিক সময় বোঝার ৮টি টিপস
https://i.ytimg.com/vi/Zw7Y49oHdu8/hqdefault.jpg
https://i.ytimg.com/vi/Zw7Y49oHdu8/default.jpg
বাংলা স্বাস্থ্য বিধি
https://www.banglaswasthyobidhi.com/2018/01/8-tips-to-understand-the-exact-time-of-pregnancy.html
https://www.banglaswasthyobidhi.com/
https://www.banglaswasthyobidhi.com/
https://www.banglaswasthyobidhi.com/2018/01/8-tips-to-understand-the-exact-time-of-pregnancy.html
true
3985472120302382524
UTF-8
Loaded All Posts Not found any posts VIEW ALL Readmore Reply Cancel reply Delete By Home PAGES POSTS View All RECOMMENDED FOR YOU LABEL ARCHIVE SEARCH ALL POSTS Not found any post match with your request Back Home Sunday Monday Tuesday Wednesday Thursday Friday Saturday Sun Mon Tue Wed Thu Fri Sat January February March April May June July August September October November December Jan Feb Mar Apr May Jun Jul Aug Sep Oct Nov Dec just now 1 minute ago $$1$$ minutes ago 1 hour ago $$1$$ hours ago Yesterday $$1$$ days ago $$1$$ weeks ago more than 5 weeks ago Followers Follow THIS CONTENT IS PREMIUM Please share to unlock Copy All Code Select All Code All codes were copied to your clipboard Can not copy the codes / texts, please press [CTRL]+[C] (or CMD+C with Mac) to copy