কান পাকা রোগের সমস্যা ও সমাধান

প্রশ্ন : প্রাথমিকভাবে যখন রোগী কান পাকাজাতীয় সমস্যা নিয়ে আসে, আপনারা কী করেন? উত্তর : আমাদের কাছে যখন আসে, তখন আমরা একটি বিশেষ যন্ত্র দ...

প্রশ্ন : প্রাথমিকভাবে যখন রোগী কান পাকাজাতীয় সমস্যা নিয়ে আসে, আপনারা কী করেন?
উত্তর : আমাদের কাছে যখন আসে, তখন আমরা একটি বিশেষ যন্ত্র দিয়ে তার কান পরীক্ষা করি। দেখি যে তার কানের পর্দাটা ঠিক আছে কি না। সাধারণত পর্দা সাদা চকচকে থাকে। যখনই সংক্রমণ হয়, পর্দা লাল হয়ে যায়। তারপর অনেক সময় পর্দায় ছিদ্র পাওয়া যায়।
সেই ছিদ্র দিয়ে ক্রমাগত পুজ পড়তে থাকে। এরপর আমরা সেই পুজটা পরীক্ষা করতে পাঠাই। এই সঙ্গে কিছু যন্ত্রপাতি দিয়ে তার শ্রবণশক্তি পরীক্ষা করি। যখনই পর্দা ফুটো হয়ে যায় বা কানের ভারসাম্যে সমস্যা হয়, প্রদাহ হয়, তখনই মানুষের শ্রবণশক্তি কমে যায়। একটি পরীক্ষা করলেই আমরা বুঝতে পারি যে সে কানে কম শুনছে কি না। আর পুজটা পরীক্ষা করাই যে কী ধরনের জীবাণু দিয়ে সেটা সংক্রমিত হয়েছে। এরপর আমরা চিকিৎসা শুরু করি। যদি পর্দায় ছিদ্র না থাকে তাকে আমরা অ্যান্টিবায়োটিকের কোর্স দিই। নাকের ড্রপ দিই, অ্যান্টিহিসটামিন দিই। ব্যথা থাকলে ব্যথার ওষুধ দিই। এতে শতকরা ৯০ ভাগ রোগী ভালো হয়ে যায়।
প্রশ্ন : পর্দা যদি ছিদ্র হয়ে যায় সে ক্ষেত্রে কী করণীয়?
উত্তর : ফুটো হয়ে গেলে পুজ পড়ে। তখন আমরা তাকে সিস্টেমিক অ্যান্টিবায়োটিক দিই এবং কানেও ড্রপ দিই। এর মানে পর্দায় ছিদ্র হয়ে গেলে তখন পুজ পড়ে। এ ছাড়া সাধারণত পুজ পড়ে না। তবে পর্দা ছিদ্র হওয়া ছাড়া বহিঃকর্ণে অনেক সময় পুজ পড়তে পারে। সেই ক্ষেত্রে বেশি পুজ পড়ে না। কিন্তু যখন কানের পর্দা ছিদ্র হয়ে যায়, তখন প্রচুর পরিমাণে পুজ পড়ে এবং বারবার হতে থাকে। যখনই কানের পর্দা ছিদ্র হয়ে যায়, আমরা তাকে সিস্টেমিক অ্যান্টিবায়োটিক দিই। কানেও অ্যান্টিবায়োটিক ড্রপ দিই। নাকের ড্রপ দিই এবং অ্যান্টিহিসটামিন দিই। এরপর আমরা তাকে দুই সপ্তাহ পরে আসতে বলি, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা যায়। সেই সঙ্গে কানের পর্দার ছিদ্রও বন্ধ হয়ে যায়। যদি পর্দার ছিদ্রটা বড় হয় এবং যদি বারবার পুজ পড়ে, তাহলে কিন্তু ওষুধে কাজ হয় না। সেই ক্ষেত্রে আমরা দুই থেকে তিন মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করি। ওষুধ চালিয়ে যাই। যদি তিন মাসের মধ্যে তার পর্দাটা জোড়া না লাগে, কানে কম শোনে, তাহলে কিন্তু আমরা একটা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মাইক্রো সার্জারি করে পর্দা জোড়া লাগিয়ে দিই। কানের পেছনে চামড়ার নিচ থেকে একটু পর্দা নিয়ে, কানের মধ্যে মাইক্রোস্কোপের সাহায্যে লাগিয়ে নিই। এই পর্দা ঠিক করা সম্ভব। শতকরা ৯০ ভাগের বেশি ক্ষেত্রেই কিন্তু পর্দা জোড়া লেগে যায়। বাচ্চা বা প্রাপ্তবয়স্ক যেই হোক, কানে ভালো শুনতে পায় তখন। এই অস্ত্রোপচারকে টিমপ্যানোপ্লাস্টি বলে।
প্রশ্ন : এই অস্ত্রোপচার করতে কতক্ষণ লাগে?
উত্তর : এক থেকে দেড় ঘণ্টা লাগে। এক দিনেই হয়ে যায়। এক রাত হাসপাতালে থাকলেই যথেষ্ট।
প্রশ্ন : রোগ খুব বেড়ে গেলে অস্ত্রোপচারে সমস্যা হওয়ার কোনো বিষয় আছে কি?
উত্তর : বেড়ে গেলে একটি সমস্যা হয় যে এটা আস্তে আস্তে যখনই পুজ কিছু দিন পরপর পড়তে থাকে, কানের ভেতর কতগুলো সূক্ষ্ম হাড় আছে, যেগুলো মানুষকে শুনতে সাহায্য করে। এই সূক্ষ্ম হাড়গুলো নষ্ট হয়ে যেতে থাকে। যখন নষ্ট হয়ে যায়, তখন কিন্তু অস্ত্রোপচার করলেও খুব ভালো ফলাফল পাওয়া যায় না। কিন্তু নষ্ট হওয়ার আগে যদি অস্ত্রোপচার করতে পারি, প্রায় শতভাগ শ্রবণশক্তিই ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব।
আর আরেক ধরনের কান পাকা আছে, যেটাতে দুর্গন্ধযুক্ত পুজ হয়, এটি আস্তে আস্তে হাড় ক্ষয় করতে থাকে। ক্ষয় করে এটি আস্তে আস্তে মস্তিষ্কে ছড়াতে পারে। একে তখন ম্যানিনজাইটিস, ব্রেন এপসেস, এনকেফাইলাইটিস ইত্যাদি মারাত্মক জীবনঘাতী জটিলতা হতে পারে।
এগুলোর লক্ষণ হলো কান পাকা, কান পুজ পড়ার সঙ্গে মাথাব্যথা, বমি, চোখে কম দেখা, শ্রবণশক্তি ভারসাম্যহীন হয়ে যাওয়া-এসব হয়। এগুলো সাধারণত অনেক দিন ধরে চলতে থাকে। জটিলতা হতে পারে। সে রকম যদি হয়, আমরা সিটি স্ক্যান করে বলতে পারি, তার কানের ভেতরে, মস্তিষ্কের মধ্যে কোনো পুজ হয়েছে কি না বা মস্তিষ্কের ভেতরে যে রক্তনালি রয়েছে সেগুলোতে সংক্রমিত হয়েছে কি না। সেগুলো হলে সঙ্গে সঙ্গে অ্যান্টিবায়োটিক দিই, হাসপাতালে ভর্তি করি, এরপর নিউরো সার্জনকে ডাকি। নিউরো সার্জনরা সিটি স্ক্যান দেখে যদি মনে করেন, মাথার ভেতর পুজ আছে, সেটি বের করে দেন। তখন আমরা এটি বের করে দেওয়ার পর তার কানের অস্ত্রোপচার করি। করে সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত করে দেই। যাতে করে সে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যায়। এটিও অস্ত্রোপচার করে সুস্থ করা সম্ভব। তবে দেরি করলে কিন্তু জীবনঘাতী হয়ে যেতে পারে।
প্রশ্ন : এই সঠিক সময় বলতে কোনটি বোঝায়?
উত্তর : যখনই দুর্গন্ধযুক্ত পুজ এবং মাথাব্যথা থাকে, সঙ্গে সঙ্গে দেরি না করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
প্রশ্ন : কান পাকা প্রতিরোধে কোন কোন বিষয় মাথা রাখতে হবে?
উত্তর : প্রতিরোধ খুবই সহজ। বারবার ময়লা কোনো কিছু দিয়ে কান পরিষ্কার করবে না। এরপর বাইরে যত্রতত্র কান পরিষ্কার করাবে না। ডুব দিয়ে গোসল করবে না। ঠান্ডা-সর্দি লাগলে চিকিৎসকের কাছে যাবে। এগুলো করলে কান পাকা রোগ স্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা নেই এবং জটিলতাও কম হবে।

COMMENTS

Name

খাদ্য ও পুষ্টি,36,জন্মনিয়ন্ত্রণ,1,পুরুষের স্বাস্থ্য,4,ভেষজ চিকিৎসা,20,মহিলা স্বাস্থ্য,241,শিশু স্বাস্থ্য,56,সমস্যা ও সমাধান,202,
ltr
item
বাংলা স্বাস্থ্য বিধি: কান পাকা রোগের সমস্যা ও সমাধান
কান পাকা রোগের সমস্যা ও সমাধান
https://i.ytimg.com/vi/78d85sGsQTU/hqdefault.jpg
https://i.ytimg.com/vi/78d85sGsQTU/default.jpg
বাংলা স্বাস্থ্য বিধি
https://www.banglaswasthyobidhi.com/2018/01/Problems-and-Solutions-for-Ear-Inoculation.html
https://www.banglaswasthyobidhi.com/
https://www.banglaswasthyobidhi.com/
https://www.banglaswasthyobidhi.com/2018/01/Problems-and-Solutions-for-Ear-Inoculation.html
true
3985472120302382524
UTF-8
Loaded All Posts Not found any posts VIEW ALL Readmore Reply Cancel reply Delete By Home PAGES POSTS View All RECOMMENDED FOR YOU LABEL ARCHIVE SEARCH ALL POSTS Not found any post match with your request Back Home Sunday Monday Tuesday Wednesday Thursday Friday Saturday Sun Mon Tue Wed Thu Fri Sat January February March April May June July August September October November December Jan Feb Mar Apr May Jun Jul Aug Sep Oct Nov Dec just now 1 minute ago $$1$$ minutes ago 1 hour ago $$1$$ hours ago Yesterday $$1$$ days ago $$1$$ weeks ago more than 5 weeks ago Followers Follow THIS CONTENT IS PREMIUM Please share to unlock Copy All Code Select All Code All codes were copied to your clipboard Can not copy the codes / texts, please press [CTRL]+[C] (or CMD+C with Mac) to copy