ঘামাচি এর কারণ এবং প্রতিকার

উজ্জ্বল আলো আর রৌদ্র ঝলমল দিনের ঋতু গ্রীষ্ম। এই ঋতু যতটানা চমৎকার তার চেয়ে বেশি বিরক্তিকর এর উত্তাপ প্রখরতা। এই ঋতুর সবচেয়ে বড় একটি সমস্যা...

উজ্জ্বল আলো আর রৌদ্র ঝলমল দিনের ঋতু গ্রীষ্ম। এই ঋতু যতটানা চমৎকার তার চেয়ে বেশি বিরক্তিকর এর উত্তাপ প্রখরতা। এই ঋতুর সবচেয়ে বড় একটি সমস্যা হচ্ছে ঘামাচি যা অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এটি কে বলা হয় মিলিরিয়া। এটি সাধারণত একটি স্কিন সমস্যা যা শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সের লোক আক্রান্ত হয়।
ঘামাচির কারন
ঘামাচি সাধারণত সেই সব লোকের বেশি হয়ে থাকে যারা অধিক গরম এবং সেঁতসেঁতে আবহাওয়ায় বসবাস করে। এই সমস্ত পরিবেশে বসবাসকারীরা অতিরিক্ত ঘামায় এবং দেহের ঘাম গ্রন্থি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে ঘামাচি দেখা দেয়। তাছাড়া অপরিপক্ক ঘাম গ্রন্থিতে ব্যাকটেরিয়াল ইনফেশনের ফলেও ঘামাচি হতে পারে।
আজকে আমরা ঘামাচি দূর করার কিছু ঘরোয়া সমাধান আলোচনা করছি যার সঠিক ব্যাবহারের ফলে আপনি ঘামাচি সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন।
১. ঠান্ডা চিকিৎসা
ঘামাচি আক্রান্ত এলাকায় ঠান্ডা শীতল পরশ খুব কাজে আসে উদ্দিপ্ততা এবং চুলকানি দূর করতে।
  • কিছু বরফ টুকরা নিয়ে ঘামাচি আক্রান্ত এলাকায় ৫-১০ মিনিট ধরে লাগাতে পারেন। দৈনিক ৪-৬ ঘন্টা পরপর এটি করতে পারেন। এইভাবে দুই থেকে তিন দিন করুন। ঘামাচি সমস্যা দূর হয়ে যাবে এবং পুনরায় দেহে ছড়াবে না।
  • অন্যভাবে আপনি একটি পরিষ্কার কাপড় ঠান্ডা পানিতে ভিজিয়ে আক্রান্ত এলাকায় ৫-১০ মিনিট ধরে লাগাতে পারেন, এইভাবে দিনে ৩-৪ বার করুন এক সপ্তাহ পর্যন্ত।
  • তাছাড়া আপনি ঠান্ডা পানির গোসল নিতে পারেন ঘামাচির তীব্র যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য।
২. নিম পাতা
নিমপাতার মধ্যে উদ্দিপ্ততা বিরোধী এবং অ্যান্টিসেপটিকে বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা ঘামাচি জনিত চুলকানি এবং জ্বালা থেকে সুরক্ষা করে।
  • ফ্রশ নিম পাতা গুড়ো করে পেষ্ট তৈরি করুন এবং আক্রান্ত এলাকায় লাগিয়ে দিনে এবং যতক্ষন পর্যন্ত্য নিজে নিজেই না শুকাচ্ছে অপেক্ষা করুন। শুকনোর পর পরিষ্কার ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। দিনে একবার করে এক সপ্তাহ ব্যাবহার করুন।
  • অন্যভাবে আপনি একমুঠ নিম পাতা ২ কাপ পরিমাণ পানিতে ২০ মিনিট ধরে ধরে সিদ্ধ করুন। এইবার সিদ্ধ করা পানিটি ঠান্ডা হতে দিন। পরিষ্কার একটি কাপড় নিয়ে ঐ পানিতে ভিজিয়ে নিন এবং আক্রান্ত এলাকায় ৫-১০ মিনিট ধরে লাগাতে থাকুন। দিনে চার থেকে পাঁচ বার লাগান এক সপ্তাহ পর্যন্ত্য।
৩. এলোভেরা
এলোভেরার শীতল উদ্দিপ্তা বিরোধী এবং ঠান্ডা বৈশিষ্ট্যের ফলে এটি ঘামাচি দূর করার অন্যতম একটি ঘরোয়া সমাধানে পরিণত হয়েছে।
  • ফ্রেশ এলোভেরার নির্যাস এলোভেরা পাতা থেকে বের করে নিন।
  • আক্রান্ত এলাকায় লাগান।
  • ২০ মিনিট পর্যন্ত্য রাখুন। এবং ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল করুন।
  • দিনে ২ বার ব্যাবহার করুন এক সপ্তাহ পর্যন্ত।
৪. চন্দন পাউডার
চন্দনের মধ্যে শীতলতার বৈশিষ্ট্য থাকায় এটি খুবই কার্যকরি ঘামাচি দূর করার ক্ষেত্রে। এটি আপনার দেহের তাপমাত্রাকে শীতল রাখবে যা আপনার দেহের ঘামাচিকে দ্রুত দূর করতে সাহায্য করবে।
  • সমান পরিমানের চন্দন পাউডার এবং গোলাপ জল নিয়ে একটি পেষ্ট তৈরি করুন। পেষ্টটি আক্রান্ত এলাকায় লাগান এবং যতক্ষন পর্যন্ত না শুকোয় ততক্ষন পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। শুকনের পরে পরিষ্কার ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল করুন। দিনে দুই বার করে এক সপ্তাহ ব্যাবহার করুন।
  • অন্যভাবে দুই টেবিলচামচ চন্দন গুড়া এবং ধনিয়ার গুড়া পরিমাণ মত গোলাপ জলে মিশিয়ে নিন এবং আক্রান্ত স্থানে লাগান। শুকনোর পর পরিষ্কার ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। দৈনিক দুইবার করে এক সপ্তাহ ব্যাবহার করুন।
  • তাছাড়াও আপনি গোসলের পরে চন্দন গুড়া দেহে লাগাতে পারেন।
৫. কাঁচা আম
কাঁচা আম সবচেয়ে ভালো একটি খাবার ফল যা আপনার শরীরকে খুব কার্যত ভাবে শীতল রাখবে এবং ঘামাচির জ্বালা এবং চুলকানি থেকে রক্ষা করবে।
  • দুইটি কাঁচা আম দুই কাপ পরিমাণ গরম পানিতে সিদ্ধ করুন যতক্ষন না পর্যন্ত আম গুলো নরম হয়।
  • এইবার সিদ্ধ হওয়া আম গুলো ঠান্ডা হওয়ার পর পানি থেকে তুলে নিন এবং আম গুলো কে চিপিয়ে রস বের করুন।
  • আমের রস ঠান্ডা খাবার পানিতে মিশান, সাথে লবণ এবং চিনি আপনার স্বাদ অনুযায়ী মিশিয়ে নিন।
  • দৈনিক এক বা দুই বার পান করুন এক সপ্তাহ পর্যন্ত যা আপনার হিলিং প্রসেস বৃদ্ধি করতে সাহায্য করবে।
৬. শসা
শসার মধ্যে পরম শীতল ভাব রয়েছে যা আক্রান্ত স্থানকে ঠান্ডা এবং শীতল করে। এটি অবশ্যই চুলকানি দূর করতেও সাহায্য করে।
  • শসাকে পাতলা করে কেটে নিন। কিছু সময় ধরে এক বাটি ঠান্ডা পানিতে চুবিয়ে রাখুন এবং ২ টেবিল চামচ লেবুর রস তাতে মিশিয়ে নিন। এইবার শসার টুকরো গুলোকে নিয়ে আক্রান্ত এলাকায় ১০ পর্যন্ত রেখে দিন। দিনে ৩ বার করুন এক সপ্তাহ পর্যন্ত।
  • আপনি ইচ্ছে করলেই শসার নরম অংশ আক্রান্ত স্থানে লাগিয়ে ৩০ মিনিট ধরে অপেক্ষা করতে পারেন। ৩০ মিনিট পর পরিষ্কার ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি আপনার আক্রান্ত স্থানকে ঠান্ডা রাখবে এবং চুলকানি কমাতে সাহায্য করবে। দিনে কয়েকবার করুন এক সপ্তাহ পর্যন্ত যার ফলে আপনি দ্রুত আরোগ্য লাভা করবেন।
  • প্রতিদিন শসা খাওয়ার চেষ্টা করুন যা আপনার দেহ কে ডিহাইড্রেট হতে রক্ষা করবে।
সতর্কতা
উপরের নির্দেশনাতেও যদি আপনার কাজ না হয় তাহলে আপনি চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
আর নয় ঘামাচির যন্ত্রণা, উপরের নির্দেশনা মত কাজ করুন আপনার ঘামাচি দূর করুন।

COMMENTS

Name

খাদ্য ও পুষ্টি,36,জন্মনিয়ন্ত্রণ,1,পুরুষের স্বাস্থ্য,4,ভেষজ চিকিৎসা,20,মহিলা স্বাস্থ্য,241,শিশু স্বাস্থ্য,56,সমস্যা ও সমাধান,202,
ltr
item
বাংলা স্বাস্থ্য বিধি: ঘামাচি এর কারণ এবং প্রতিকার
ঘামাচি এর কারণ এবং প্রতিকার
https://i.ytimg.com/vi/Lg2ZAY-KOy0/hqdefault.jpg
https://i.ytimg.com/vi/Lg2ZAY-KOy0/default.jpg
বাংলা স্বাস্থ্য বিধি
https://www.banglaswasthyobidhi.com/2018/04/causes-and-remedies-of-the-sweat.html
https://www.banglaswasthyobidhi.com/
https://www.banglaswasthyobidhi.com/
https://www.banglaswasthyobidhi.com/2018/04/causes-and-remedies-of-the-sweat.html
true
3985472120302382524
UTF-8
Loaded All Posts Not found any posts VIEW ALL Readmore Reply Cancel reply Delete By Home PAGES POSTS View All RECOMMENDED FOR YOU LABEL ARCHIVE SEARCH ALL POSTS Not found any post match with your request Back Home Sunday Monday Tuesday Wednesday Thursday Friday Saturday Sun Mon Tue Wed Thu Fri Sat January February March April May June July August September October November December Jan Feb Mar Apr May Jun Jul Aug Sep Oct Nov Dec just now 1 minute ago $$1$$ minutes ago 1 hour ago $$1$$ hours ago Yesterday $$1$$ days ago $$1$$ weeks ago more than 5 weeks ago Followers Follow THIS CONTENT IS PREMIUM Please share to unlock Copy All Code Select All Code All codes were copied to your clipboard Can not copy the codes / texts, please press [CTRL]+[C] (or CMD+C with Mac) to copy