শিশুর মেধার বিকাশে বাবা মায়ের করনীয়

আজকের শিশু আগামী দিনের পরিপূর্ণ মানুষ এবং জাতির উৎজ্জল ভবিষ্যৎ। এই জন্য শিশুকে জন্মের শুরু থেকে একটু বেশি দেখা-শুনা করা প্রয়োজন। কারন শিশু...

আজকের শিশু আগামী দিনের পরিপূর্ণ মানুষ এবং জাতির উৎজ্জল ভবিষ্যৎ। এই জন্য শিশুকে জন্মের শুরু থেকে একটু বেশি দেখা-শুনা করা প্রয়োজন। কারন শিশুর জন্মের পর থেকেই প্রথম কিছু বছর তার শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য অনেক বেশি গুরুত্তপূর্ণ। এই কিছু বছরের কার্যকলাপের উপরেই শিশুর পরবর্তী জীবনের বুদ্ধিমত্তা নির্ধারণ করে।
অনেকেই হইত মনে করতে পারেন, এই সময় শিশুর মেধাবিকাশের জন্য তেমন কিছুর প্রয়োজন নেই। কিন্তু এই অবহেলাই শিশুর পরবর্তী জীবনের বড় কোন মানসিক সমস্যার কারন হয়ে দাড়াতে পারে। শিশুর সুন্দর শৈশব এবং অনাবিল ভবিষের জন্য দরকার সঠিকভাবে বেড়ে উঠা। লেখা-পড়া, খেলা-ধুলা এবং সুন্দরভাবে তার জীবনকে আনন্দময়  করতে স্বাভাবিক জীবন একান্ত কাম্য। এই সময়ই শিশুর মেধাবিকাশে ও পর্যাপ্ত চর্চায় আগামী দিনের পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে।  তাই শিশুর প্রথম বছরে বাবা-মা তার বিকাশের অবদান রাখতে পারেন এমন ছয়টি টিপস জেনে নিন আজই।
১।  যখন শিশুর বয়স শুরু হয়, তখন শিশুর সাথে প্রতিদিন অনেকটা সময় জুড়ে বারবার কথা বলা , সাথে সাথে গল্প শুনানো এবং তার সাথে গল্প করা। শিশুর চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলা। এতে করে শিশুর মেধার বিকাশ বৃদ্ধি হতে থাকে।
২। শিশুর বিভিন্ন রকমের গল্পের বই পড়ে শোনালে, সাথে সাথে ছড়া পড়ে শোনালে । শিশুর মানসিক বিকাশে অনেক অবদান রাখতে সাহায্য করে থাকে। এতে শিশু বড় হলে অনেক মেধাবী হয়।
৩। এমন কি শিশুর নাম ধরে বারবার ডাকলে, তাকে বিভিন্ন সাধারন কথাই অভ্যস্ত করে তুললে। এতে শিশু মূল্যবোধ ব্যবহত শব্দগুলো সহজেই অতিদুরত এবং করতে পারে।যার ফলে শিশুর মেধা বিকাশ অনেক ক্ষেত্রে বেড়ে যাই।
৪। যদি দেখা যায় যে আপনার সন্তান কোন নির্দিষ্ট বিষয়ে বারবার আনন্দিত হচ্ছে কিংবা নিজের উৎফুল্লতা প্রকাশ করছে তবে নিয়ে শিশুর সাথে কথা বলুন বারবার। যেমন অনেক সময় শিশুরা নির্দিষ্ট কোন খেলনা , কোন মিউজিক বা কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তি দেখলে আনন্দ পায়। এর প্রক্রিয়া যাতে সবসময় আপনার সন্তানের সাথে ঘটে সেদিকে নজর দিন।
৫। শিশু কি বলতে বা কি বোঝাতে চাইছে তা যথেষ্ঠ সময় ও ধৈর্য নিয়ে বুহতে চেষ্টা করুন। তার ব্যাপারটি বুঝতে পারছেন না বলে অযথা রাগ করবেন না বা ধৈর্য হারাবেন না। এতে শিশুর মানসিক সমস্যা তৈরি হতে পারে।
৬। শিশুর চোখের সামনে সবকিছু রঙ্গিন রাখতে চেষ্টা করুন। রঙ্গিন কাগজ, রঙ্গিন খেলনা এসব শিশুর মেধার বিকাশ ঘটাতে বেশ সাহায্য করে।
৭। তার বেড়ে ওঠার জন্যে যথাযথ পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং সন্তানের চাহিদাগুলো পূরণে সচেষ্ট হওয়া।
৮।  শিশুর ওপর খবরদারী করা থেকে বিরত থাকা উচিত। এটা করো না, ওটা ধরো না, এটা করো, সেটা ধরো-এসব করা ঠিক নয়। তারচে বরং এসব কথা যাতে বলতে না হয়, সে ব্যাপারে আগেই সচেতন থাকা উচিত। এসব করা হলে শিশুর সুপ্ত প্রতিভা বিকাশ বাধাগ্রস্ত হবে।
৯। শিশুর জন্যে যেসব জিনিসপত্র তিকর ও ভয়াবহ, সেসব জিনিস তার হাতের নাগালে রাখা অনুচিত। অন্যথায় শিশু যদি ঐসব জিনিস দিয়ে কোন জরুরী কিছু নষ্ট করে, তাহলে ঐসব জিনিস নষ্ট করার জন্যে শিশুকে কোনভাবেই দোষারোপ করা যাবে না। অর্থাৎ তার ওপর রাগ দেখানো যাবে না।
১০। বাবা-মায়ের উচিত বাসায় তাদের জরুরী জিনিসগুলো যথাযথ জায়গায় রাখা। ছুরি-চাকু বা এ ধরণের ধারালো জিনিসগুলো, বিষাক্ত ঔষধপত্র, কীট নাশক জাতীয় জিনিস, কাঁচের জিনিসপত্র, দামী তৈজসপত্র, জরুরী কাগজপত্র প্রভৃতি শিশুর হাতের নাগালের বাইরে রাখা উচিত।
১১। শিশু যখন জেগে থাকে, তখন এমন কোন জিনিস বের করা বা মেরামত করার জন্যে খোলা ঠিক নয়, যার ছোট্ট একটি যন্ত্রাংশ হারালে বা নষ্ট হলে পুরো জিনিসটাই নষ্ট হয়ে যাবে। অন্যকথায় শিশু এসব যন্ত্রপাতি নষ্ট করলে তার ওপর রেগে যাওয়া ঠিক নয়। কারণ শিশু এ সময়টায় কৌতূহলী হবে-এটাই স্বাভাবিক। তার কৌতূহল থেকে তাকে নিবৃত্ত করা যাবে না। অর্থাৎ এ দিকে এসো না, এটা ধরো না-এরকম বলা যাবে না। পরিবারে যদি স্কুলগামী কোন সন্তান থাকে, তাহলে তার বই-পুস্তকসহ অন্যান্য শিক্ষা-উপকরণ এমনভাবে রাখতে হবে, যাতে শিশু সেগুলো ধরতে না পারে, নষ্ট করতে না পারে। মায়ের যদি সেলাই কাজের অভ্যাস থাকে, তাহলে তা করতে হবে শিশু যখন ঘুমোয় তখন, অথবা এমন কোন জায়গায় যেখানে শিশুর উপস্থিতির সম্ভাবনা নেই। আর সুঁই-সূতা-ব্লেড ইত্যাদি রাখতে হবে নিরাপদ দূরত্বে।
ধরা যাক, বহু সতর্কতার পরও শিশু ব্লেড বা ছুরি-চাকু জাতীয় কিছু একটা হাতে নিল। এ অবস্থায় কী করতে হবে? না, কোন অবস্থাতেই চীৎকার চেঁচামেচি করা যাবে না, বরং তার সামনে এমন অন্য একটা জিনিস এনে হাজির করতে হবে, যাতে শিশুর মনযোগ সেদিকে যায় এবং সুযোগমতো ঐ ভয়ানক বস্তুটি তার হাত থেকে সরিয়ে নেয়া যায়। এমন ভাবে নিতে হবে যাতে শিশুটি একদম টের না পায়।
বাবা-মায়ের এতো সতর্কতার কারণ হলো, এ সময়টা শিশুর পরিপূর্ণ স্বাধীনতার পর্ব। তার যা খুশী তা-ই করবে সে। তাকে আদেশ দেয়া যাবেনা, বারণও করা যাবে না। শিশুর মেধা বিকাশের স্বার্থে বাবা-মা ভালোবেসে, আদর করে এটুকু ছাড় দেবেন-এটাই প্রত্যাশা।

COMMENTS

Name

খাদ্য ও পুষ্টি,36,জন্মনিয়ন্ত্রণ,1,পুরুষের স্বাস্থ্য,4,ভেষজ চিকিৎসা,20,মহিলা স্বাস্থ্য,241,শিশু স্বাস্থ্য,56,সমস্যা ও সমাধান,202,
ltr
item
বাংলা স্বাস্থ্য বিধি: শিশুর মেধার বিকাশে বাবা মায়ের করনীয়
শিশুর মেধার বিকাশে বাবা মায়ের করনীয়
https://i.ytimg.com/vi/bBNI5VJAdLI/hqdefault.jpg
https://i.ytimg.com/vi/bBNI5VJAdLI/default.jpg
বাংলা স্বাস্থ্য বিধি
https://www.banglaswasthyobidhi.com/2018/05/Parents-should-take-care-of-child-merit.html
https://www.banglaswasthyobidhi.com/
https://www.banglaswasthyobidhi.com/
https://www.banglaswasthyobidhi.com/2018/05/Parents-should-take-care-of-child-merit.html
true
3985472120302382524
UTF-8
Loaded All Posts Not found any posts VIEW ALL Readmore Reply Cancel reply Delete By Home PAGES POSTS View All RECOMMENDED FOR YOU LABEL ARCHIVE SEARCH ALL POSTS Not found any post match with your request Back Home Sunday Monday Tuesday Wednesday Thursday Friday Saturday Sun Mon Tue Wed Thu Fri Sat January February March April May June July August September October November December Jan Feb Mar Apr May Jun Jul Aug Sep Oct Nov Dec just now 1 minute ago $$1$$ minutes ago 1 hour ago $$1$$ hours ago Yesterday $$1$$ days ago $$1$$ weeks ago more than 5 weeks ago Followers Follow THIS CONTENT IS PREMIUM Please share to unlock Copy All Code Select All Code All codes were copied to your clipboard Can not copy the codes / texts, please press [CTRL]+[C] (or CMD+C with Mac) to copy